রবিবার ১৩ জুন ২০২১

৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ই-পেপার

monir

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০১,২০২১, ১১:৫৫

স্পিরুলিনা’র চাষ হতে পারে বিকল্প খাদ্য ও কর্মস্ংস্থান

স্পিরুলিনা চাষ হতে পারে

বিকল্প খাদ্য ও কর্মস্ংস্থান

 

মনিরুজ্জামান

নির্বাহী সভাপতি

বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারাস এসোসিয়েশন

 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করে জলাশয়ে এই সামুদ্রিক শৈবাল চাষ করা হয়।

স্পিরুলিনা এক ধরনের অতিক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল। এটি সামুদ্রিক শৈবাল নামেই বেশি পরিচিতি। সূর্যালোকের মাধ্যমে শৈবালটি প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। এর বৈজ্ঞানিক নাম আর্থোস্পিরা ম্যাক্সিমা। এটা মূলত সমুদ্রে প্রজনন হয়। বর্তমানে বিশ্বে কৃত্রিম জলাধারে এর বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। স্পিরুলিনায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খনিজ পদার্থ রয়েছে। সব ধরনের পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ হওয়ায় স্পিরুলিনা ‘সুপারফুড’ নামে পরিচিত। অনেকে স্পিরুলিনাকে ‘মিরাকল ফুড’ও বলে থাকেন। স্পিরুলিনা স্বাদবিহীন শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নানা রোগনিরাময়ে মূল্যবান ভেষজ হিসেবেও এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

এটা শতভাগ নেচারাল ও অর্গানিক পন্থায় প্রজনন ও চাষাবাদ করা যায়।

গবেষকরা বলছেন, স্পিরুলিনা নিয়মিত সেবনে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, মহিলাদের বন্ধ্যত্ব, উচ্চরক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হয়। তা ছাড়া আর্সেনিকোসিসের উত্তম প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে এটা। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে (২০০৮) সালে বিশ্বে পুষ্টিহীনতা দূর করতে স্পিরুলিনা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।

স্পিরুলিনা চাষে বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনাময়। এদেশের আবহাওয়া স্পিরুলিনা চাষের উপযুক্ত। প্রাকৃতিক ভাবে সমুদ্রের উপকুল বা বাসা-বাড়ি বা যে কোন স্থানে এটা চাষাবাদ করা যায়। কমার্শিয়াল নন কমার্শিয়াল এটা চাষাবাদ করতে পারে।

সাধারণত চার ফুট উচ্চতা এবং তিন ফুট ব্যাসসম্পন্ন ড্রামে ২৫০-২৭৫ লিটার পানি বা নিজের মতো করে পানীয় জলধারা তৈরী করে, ট্যাংকি তৈরী করে এটার চাষাবাদ শুরু করা যেতে পারে।

পানি চলমান রাখার জন্য ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয় তবে ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে প্রত্যকটিতে পাইপ দিয়ে যুক্ত করে দেওয়া ভাল। সূর্যের তাপমাত্রার বিকল্প হিসেবে এলইডি লাইট ব্যবহার করা হয়।

১০০ গ্রাম স্পিরুলিনা থেকে ৩৭৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায় এবং এর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রোটিন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় লৌহ, পটাশিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। শর্করা একেবারেই কম মাত্রায় থাকে বলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রয়েছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ ও ‘অ্যান্টি-এজিং’ উপাদান। উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকায় এটি শিশুদের হাড় ও মস্তিকের পরিপক্বতায় ভূমিকা রাখে। চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। স্পিরুলিনা শুকিয়ে গুঁড়া করে সালাদ, নুডুলস, শাকসবজি, ফালুদা, শরবত ও জুসে মিশিয়ে খাওয়া যাবে। স্পিরুলিনা চাষ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন ফিউচার ফুড হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, সূর্যের আলোতে এবং অধিক তাপমাত্রায় স্পিরুলিনা ভালো জন্মে। তাই এটি চাষের জন্য বাড়ির ছাদ উত্তম জায়গা। তবে দৈনিক সাত থেকে আট ঘন্টা সূর্যের আলো পর্যাপ্ত থাকে বাড়ির এমন জায়গায় এর চাষ করা যাবে। সূর্যের আলো ছাড়া এর উৎপাদনে গবেষণা চালছে বলে জানান তারা। এক্ষেত্রে সূর্যেও আলোর পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে আলো সরবার করা হচ্ছে।

যে কেউ এটা চাষ করতে পারে। ৫০০০ টাকা হলে এটার চাষাবাদ শুরু করা যতে পারে।

 

POST COMMENT

For post a new comment. You need to login first. Login

COMMENTS(0)

No Comment yet. Be the first :)